Tuesday , 11 August 2020
Home » InterNet » এপিআই কি | What Is API

এপিআই কি | What Is API

এপিআই কি | What Is API

এপিআই কি | What Is API, এপিআই এর সম্পূর্ণ রুপ হচ্ছে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (Application Programing Interface)। একজন সাধারন ইউজার হিসেবে কখনোই এর মান দিয়ে এর কাজ বোঝা সম্ভব নয়, চলুন সহজ করে সম্পূর্ণ বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি। এপিআইকে মূলত এক ধরনের টুল বলতে পারেন যেটা একটি সফটওয়্যারকে আরেকটি আলাদা সফটওয়্যারের সাথে কানেক্ট করতে এবং একই রুলে চলতে সাহায্য করে। এখন ধরুন আপনি একজন ৩ডি মডেলার এবং আপনার একজন প্রতিবেশী হলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব আপনার কাছ থেকে তার নেক্সট প্রজেক্টের জন্য একটি ৩ডি মডেল ডিজাইন করিয়ে নিতে চান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি কথা বলেন বাংলা ভাষায় আর আপনার প্রতিবেশী ইঞ্জিনিয়ার কথা বলেন চাইনিজ ভাষায়, তাহলে আপনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলবেন কীভাবে? অবশ্যই আপনাদের একজন অনুবাদকের প্রয়োজন পড়বে, যিনি উভয় ভাষা জানেন এবং আপনাদের একে অপরেরটা বুঝিয়ে দিতে পারবেন। এপিআইকে আপনি এই উদাহরনের অনুবাদকের সাথে তুলনা করতে পারেন, এটি এমন একটি টুল যেটা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের কথা বোঝে এবং একটার সাথে আরেকটাকে কানেক্টেড করে দেয়।
যেকোনো প্রোগ্রামের সাথে এপিআই যুক্ত করানো যেতে পারে এবং সেটিকে আলাদা প্রোগ্রামের সাথে কানেক্ট করা যেতে পারে। ধরুন আপনার উইন্ডোজ কম্পিউটারের নোটপ্যাডে আপনি কিছু লিখলেন এবং সেটাকে প্রিন্ট করতে চাচ্ছেন। এবার আপনার নোটপ্যাড প্রোগ্রামটি যদি প্রিন্টারের এপিআই এর সাথে সংযুক্ত থাকে তবে নোটপ্যাড প্রিন্টারকে সরাসরি আদেশ দিতে পারবে এবং প্রিন্ট করাতে পারবে। আবার ধরুন আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করলেন যেখান থেকে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের এবং যেকোনো পরীক্ষার রেজাল্ট দেখতে পাওয়া সম্ভব। তবে আপনার সাইটটিকে সমস্ত রেজাল্ট সাইট এবং তাদের ডাটাবেজের সাথে এপিআই এর মাধ্যমে কানেক্ট করতে হবে। কোন ইউজার যখন কোন রেজাল্ট জানতে চেয়ে আপনার সাইটে অনুসন্ধান করবে, এপিআই তখন ঐ রেজাল্ট সাইটের ডাটাবেজ চেক করবে এবং তার সামনে ঐ ডাটাবেজ থেকে রেজাল্ট প্রদর্শিত করবে। এভাবে এপিআই এর অনেক সুবিধা রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে অনেক অ্যাপ্লিকেশন বা অনেক ওয়েবসাইটকে একত্রিত করে আরো বেটার এবং সহজে সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। ধরুন আপনার কাছে একটি আবহাওয়া অ্যাপ আছে যেটা আপনার লোকাল অবস্থানের আবহাওয়া বার্তা প্রদান করে। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, যদি এই অ্যাপটিকে সারাদেশের সকল লোকাল অ্যাপের সাথে যুক্ত করানো যায় তবে একটি অ্যাপ থেকেই আপনি সারাদেশের আবহাওয়া বার্তা পেতে পারবেন। আশা করি এপিআই কি এবং কীভাবে কাজ করে এটা নিয়ে আপনার মনে আর কোন সন্দেহ নেই, এবার বিভিন্ন পর্যায়ে এর ব্যবহার গুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ব্যবসায় এপিআই

অনলাইন ভিত্তিক কোম্পানি এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেবা প্রদানকারী কোম্পানিদের সংখ্যা বর্তমানে অগুনতি। গুগল, ফেসবুক, টুইটারের মতো বড় বড় কম্পানিরা তাদের মধ্যের লড়ায় বজায় রাখার জন্য তৃতীয়পক্ষ সাইটে তাদের সেবা প্রদর্শন করানোর ব্যবস্থা করিয়ে থাকেন। আপনি অনেক ওয়েবসাইট ভিজিট করে থাকলে অবশ্যই লক্ষ্য করবেন, আর্টিকেল তো থাকে ঐ সাইটেই কিন্তু সেখানে সরাসরি ফেসবুক কমেন্ট যুক্ত করা থাকে, অর্থাৎ ওয়েবসাইটের আর্টিকেলে ফেসবুক কমেন্ট করা যায় এবং কমেন্ট গুলো ফেসবুকেও পাবলিশ হয়। আবার দেখা যায়, ওয়েবসাইট থেকেই টুইটারের লেটেস্ট পোষ্ট গুলো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, এগুলো সবই কিন্তু এপিআই দ্বারা সম্ভব হয়ে থাকে।
টেকহাবসের নতুন কমিউনিটি সাইটে দেখবেন ফেসবুক, টুইটার, এবং গুগল অ্যাকাউন্ট দ্বারা লগইন বা রেজিস্টার করা যায়, এটি কীভাবে কাজ করে? টেকহাবস সরাসরি ফেসবুক, গুগল, এবং টুইটারের ইউজার ডাটাবেজের সাথে কানেক্টেড রয়েছে, যখন কোন ইউজার ফেসবুকের মাধ্যমে লগইন করে ফেসবুক টেকহাবসকে ঐ ইউজারের ডিটেইলস প্রদান করে এবং টেকহাবসে লগইন হয়ে যায়। এতে আপনার এক অ্যাকাউন্ট দিয়েই সকল কাজ হয়ে যায়। এপিআই এর মূল উদ্দেশ্য মূলত এটাই, সকল ওয়েবসাইট এবং সফটওয়্যার গুলোকে একত্রে কাজ করিয়ে সেবার মান উন্নত করা।

গভর্নমেন্টে এপিআই

সফটওয়্যার গুলো বা ওয়েবসাইট বা ব্রাউজার ছাড়াও সরকার নিজেও বিভিন্ন সার্ভিসকে এক জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য এপিআই ব্যবহার করে থাকে। দেশের বিভিন্ন বাহিনির ডাটাবেজ একই সূত্রে বাঁধা থাকতে পারে যেখানে কোন প্রয়োজনে এক যাওয়া থেকে তথ্য অনুসন্ধান করেই সকল তথ্য পাওয়া যায়। আবার সকল শহরের সিসিটিভি ক্যামেরা গুলোকেও একত্রে এক জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য কানেক্টেড করে রাখা হয়।
এপিআই এর সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে কোন অ্যাপ্লিকেশনে নতুন ফিচার যুক্ত করার জন্য নতুন করে প্রোগ্রামিং করার প্রয়োজনীয়তা পড়ে না। বরং একটি অ্যাপ্লিকেশন থেকে আর সুবিধা আরেকটি অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত করা যায়। ধরুন একটি অ্যাপ্লিকেশনে শুধু টেক্সট চ্যাট করা যায় কিন্তু সেটাকে অন্য কোন অ্যাপ্লিকেশনের এপিআই এর সাথে যুক্ত করিয়ে ভয়েস চ্যাট, ভিডিও চ্যাট সহ সকল ফিচার পাওয়া সম্ভব। আপনি নিজে চাইলেও ফেসবুকের এপিআই ব্যবহার করে নিজের ফেসবুক অ্যাপ কিংবা ম্যাসেঞ্জার বানাতে পারবেন।
১। গুগল ম্যাপ এপিআই: এই এপিআই এর মাধ্যমে ডেভেলপাররা যে কোন ওয়েব পেজে গুগল ম্যাপ ইন্টিগ্রেড করতে পারবেন । মোবাইল ডিভাইসগুলোতে জিপিএস মনিটরিং সহ রোড ডাইরেকশন এবং আরো সব অসাধারন ট্রাকিং এ্যাপ এটি একটি অসাধারন এপিআই।
২। ইউটিউব এপিআই : ইউটিউবের ভিডিও এবং ইউটিউবের বিভিন্ন ফাংশানালিটি ওয়েবসাইট কিংবা এ্যাপে ইন্ট্রিগেট করা যাবে। এই এপিআইতে ইউটিউব এনালাইটিক্স, ডাটা এপিআই এবং লাইভ স্ট্রিম এপিআই সহ অন্যান্য সুবিধা রয়েছে।
ম্যাপ এবং ইউটিউব এপিআই ছাড়াও গুগলের অনেক এপিআই আছে যেগুলো ব্যবহৃত হয়েছে হাজার হাজার ওয়েব সার্ভিসে । গুগল এপিআই ব্যবহারের পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন এই সাইট টি তে।
৩। ফেসবুক এপিআই: ফেসবুকে লগিন, স্ট্যাটস আপডেট, নিউজ ফিড, লাইক-কমেন্ট, মেজেজিং সহ ফেসবুকে অন্যান্য ফাংশনালিটি কোন ওয়েব সার্ভিসে বা মোবাইল এ্যাপে ইন্টিগ্রেশন অনেক সহজ করে দিয়েছে এই এপিআই।
ফেসবুক গ্রাফ এপিআই ব্যবহারের পরিসংখ্যান পাবেন এখানে।
৪। টুইটার এপিআই : টুইটার দুইটা এপিআই প্রোভাইড করে। রেস্ট এপিআই এর মাধ্যমে টুইটারের কোর ডাটা এক্সেস করা যাবে আর সার্চ এপিআই এর মাধ্যমে টুইট সার্স এবং ট্রেন্ড ডাটা আপডেট পাওয়া যাবে ।
৫। আমাজন এড এপিআই : আমাজনের বিভিন্ন প্রোডাক্ট আপনার সার্ভিসে এড করে খুব সহজেই একটি এফ্লিয়েট ই-কমার্স সাইট তৈরী করতে পারবেন এই এপিআই এর মাধ্যমে ।
৬। পেপাল এপিআই: এটি দিয়ে যেকোন সার্ভিসে অনলাইন অর্ডার-পেমেন্ট ইন্টিগ্রেট করতে পারবেন ।

কিছু জনপ্রিয় এপিআই

এক কথায়

তো এপিআই বলতে আমরা কি বুঝলাম, এটি মূলত একটি টুলস যেখানে প্রোগ্রামিং এবং কম্যান্ড ব্যাবহারের মাধ্যমে এক অ্যাপ্লিকেশন আরেকটি অ্যাপ্লিকেশনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং নিজেদের ফিচার একে অপরের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে পারে। কম্পিউটার সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েবসাইট, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, সার্ভার, ডাটাবেজ ইত্যাদি এপিআইএর মাধ্যমে কানেক্টেড থাকতে পারে। এই কানেকশনের মাধ্যমে সার্ভিসকে আরো উন্নত করা হয় এবং এক জায়গা থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রন এবং সকল ফিচার প্রদান করতে সাহায্য করে।

Check Also

সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন

সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন

সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন (সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন) কম্পিউটার কমুনিকেশনে ফিজিক্যাল মিডিয়ার মধ্য দিয়ে ডাটা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »