Sunday , 9 August 2020
Home » Networking » মাল্টিটাস্কিং মাল্টিপ্রসেসিং স্থিরতা বা স্ট্যাবিলিটি

মাল্টিটাস্কিং মাল্টিপ্রসেসিং স্থিরতা বা স্ট্যাবিলিটি

মাল্টিটাস্কিং মাল্টিপ্রসেসিং স্থিরতা বা স্ট্যাবিলিটি

মাল্টিটাস্কিং

(মাল্টিটাস্কিং মাল্টিপ্রসেসিং স্থিরতা বা স্ট্যাবিলিটি) সার্ভারের দায়িত্ব হলাে বিভিন্ন ইউজারের সার্ভিস রিকোয়েস্টে জলদি ব্যবস্থা নেয়া। সাধারণ ওয়ার্কস্টেশন সাধারণত একই সময়ে কেবল একজন ইউজারের হুকুম তামিল করে। কিন্তু নেটওয়ার্ক সার্ভারে একসাথে একশজন ইউজার একশ’রকমের হুকুম দিতে পারে। সেসব হুকুম জলদি তামিল করতে না পারলে ইউজাররা সন্তুষ্ট হবে না। এধরনের অবস্থা বিবেচনা করেই সার্ভারে রাখা হয় মাল্টিটাস্কিং। মাল্টিটাস্কিং বলতে বােঝায় একইসময়ে একাধিক কাজ করা। রেস্তোরার সেই বেয়ারার কথা চিন্তা করে আমরা বলতে পারি সে যদি একইসাথে পাঁচজন কাস্টমারের অর্ডার তামিল করতে পারে তাহলে সে মাল্টিটাস্কিং করতে পারে। এরকম বেয়ারার কদরই বেশি। নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে তাই মাল্টিটাস্কিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম মাল্টিটাস্কিং করতে পারে, তবে ভিন্ন ভিন্ন লেভেলে। এই মাল্টিটাস্কিং কে উন্নত করার জন্য কোনাে কোনাে অপারেটিং সিস্টেম বিশেষ ধরনের মাল্টিটাস্কিং করে থাকে যাকে বলা হয় প্রিএম্পটিভ মাল্টিটাস্কিং (preemptive multitasking)। প্রতিটি এপ্লিকেশন বা ইউজারকে প্রসেসর যাতে সমান সময় দেয় সেটি নিশ্চিত করে প্রিএম্পটিভ মাল্টিটাস্কিং। (রেস্তোরার বেয়ারা একজনকে বেশি গুরুত্ব দিলে অন্যরা গােস্বা করতে পারে, তাই নয় কি? ) উইন্ডােজ এনটি, উইন্ডােজ ২০০০, উইন্ডােজ ২০০৩/২০০৮, ইউনিক্স, লিনাক্স, ইত্যাদি অপারেটিং সিস্টেম প্রি এমটিভ মাল্টিটাস্কিং সুবিধা দেয়।

মাল্টিপ্রসেসিং

রেস্তোরার এক বেয়ারা যদি একসাথে পাচ কাস্টমারকে সন্তুষ্ট করতে পারে তাহলে ভালাে। তবে তার ওপর নির্ভর করে দশজনের দায়িত্ব তাকে দেয়া ঠিক হবে না। কারণ সে মানুষ এবং তার কর্মক্ষমতার একটি সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করে তাকে যদি একসাথে দশজন কাস্টমারকে এটেন্ড করার দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলে দেখা যাবে কাস্টমারদের অনেকক্ষণ বসে থাকতে হচ্ছে, বসে থাকতে থাকতে কেউ কেউ বিরক্ত হয়ে চলেও যেতে পারেন। এর সমাধান হলো আরেকজন বেয়ারা সেখানে নিয়োগ করা। নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেমের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে। প্রসেসর একই সাথে বিভিন্ন ইউজারের হুকুম তামিল করতে করতে তার কর্ম ক্ষমতার কাছাকাছি পৌছে গেলে ইউজাররা রেসপন্স পায় খুব ধীরগতিতে। এটির সমাধান করা যেতে পারে আরাে বেশি ক্ষমতার প্রসেসর ব্যবহার করে। কোনাে কোনাে অপারেটিং সিস্টেম, যেমন মাইক্রোসফট উইন্ডােজ এনটি/২০০০/২০০৩/২০০৮, একসাথে একাধিক প্রসেসর ব্যবহার করতে পারে। একাধিক প্রসেসর ব্যবহারের এই সুবিধাকে বলা হয় মাল্টিপ্রসেসিং। অবশ্য মাল্টিপ্রসেসিং সুবিধা ব্যবহার করতে হলে কেবল অপারেটিং সিস্টেমে সাপাের্ট থাকলেই হবে না, বিশেষ ধরনের মাদারবাের্ডও দরকার হবে। উইন্ডােজ এনটি ৪.০ সার্ভার একসাথে চারটি প্রসেসর সাপাের্ট করে, তবে বিশেষ OEM ভার্সনে ষােলটি পর্যন্ত প্রসেসর ব্যবহার করা যায়। বড় নেটওয়ার্কে মাল্টিপ্রসেসিং বেশ সুবিধাজনক।

স্থিরতা বা স্ট্যাবিলিটি

নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেমের আরেকটি বড় গুণ হলাে এর স্থিরতা বা স্ট্যাবিলিটি। স্ট্যাবিলিটি বলতে বােঝায় একটি অপারেটিং সিস্টেম একনাগাড়ে এবং বেশি লােড নিয়ে কতক্ষণ কাজ করতে পারে। মনে রাখা দরকার সার্ভার কখনও বন্ধ হয় না, সার্ভার বন্ধ হওয়া মানে নেটওয়ার্ক ইউজাররা সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হওয়া। তাই বলা হয় সেই সার্ভারই উত্তম সার্ভার যেটি একবার ইনস্টল ও কনফিগার করার পর কোনরকম বন্ধ হওয়া ছাড়াই চলছে। কোনাে কারণে কখনও সাভার যদি বন্ধ থাকে তাহলে সেটিকে ডাউনটাইম হিসেবে ধরা হয়। নেটওয়ার্কে সার্ভারের ডাউনটাইম যত কম হয় তত ভালাে। স্ট্যাবল অপারেটিং সিস্টেম কোনােরকম ত্রুটি কিংবা রিস্টার্ট ছাড়াই একনাগাড়ে চলতে পারে। নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে মাইক্রোসফট উইন্ডােজ এনটি’র দুর্বলতা হলো এর স্ট্যাবিলিটি। এতে কোনো ডিভাইস ড্রাইভার কিংবা সফটওয়্যার ইনস্টল করা হলেই রিস্টার্ট করার দরকার পড়ে। উইন্ডােজ ২০০০- এ কমসংখ্যক রিস্টার্টের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, আর উইন্ডােজ ২০০৩/২০০৮ সার্ভার এটিকে আরো উন্নত করা হয়েছে। সেখানে প্রতিবার কম্পিউটার শাটডাউন কিংবা রিস্টার্ট করার সময় সার্ভার জানতে চাইবে কেন সেটি বন্ধ বা রিস্টার্ট করছেন। স্থিরতা বা স্ট্যাবিলিটির দিক থেকে ইউনিক্স ও লিনাক্স বেশ ভালো।

For More Know 

Check Also

সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন

সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন

সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন (সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন) কম্পিউটার কমুনিকেশনে ফিজিক্যাল মিডিয়ার মধ্য দিয়ে ডাটা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »