Friday , 21 February 2020
Home » Networking » বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম

বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম

বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম

(বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম) নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেমসমূহ প্রায় একইরকম সার্ভিস প্রদান করলেও আপনার জানা দরকার কোন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম কখন দরকার হবে, কোনটির দূর্বলতা কী এবং কোন কাজের জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়। কোনাে কোনাে সার্ভার সফটঅয়্যার বেশ ভালাে সার্ভিস দেয় কিন্তু সেটি চালানাে খুবই কঠিন, যেমন ইউনিক্স আবার কোনাে অপারেটিং সিস্টেম চালানাে সহজ কিন’ খুব স্ট্যাবল নয়। আপনার প্রয়ােজন এবং আপনার দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে বেছে নিতে হবে কোনটি চান। এখানে বিভিন্ন সার্ভার সফটঅয়্যারের উপর সংক্ষিপ্ত আলােকপাত করা হলাে।

মাইক্রোসফট উইন্ডােজ এনটি/২০০০/২০০৩/২০০৮ সার্ভার

সফটওয়্যার, বিশেষ করে অপারেটিং সিস্টেমের কথা বলতে গেলে মাইক্রোসফটের কথা প্রথমেই চলে আসে। মাইক্রোসফট উইন্ডােজ সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে ব্যবহৃত ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডােজের সাফল্যের হাত ধরে ১৯৯৩ সালে মাইক্রোসফট বাজারে ছাড়ে মাইক্রোসফট উইন্ডােজ এনটি ৩.৫১। সার্ভার অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে তখনই এটি অনেকের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়। এরপর ১৯৯৫ সালে বাজারে আসে মাইক্রোসফট উইন্ডােজ এনটি ৪.০ সার্ভার। এবছরই বাজারে আসে ব্যাপক জনপ্রিয় মাইক্রোসফট উইন্ডােজ ৯৫। এনটি ৪ এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণ হলাে এর ইন্টারফেস পুরােটিই উইন্ডােজ ৯৫ এর অনুরূপ। উইন্ডােজ এনটি’র এই গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসের কারণে সহজে সার্ভার ম্যানেজ করা যায়। এই সার্ভারের সাথে আসে ইন্টারনেট ইনফরমেশন সার্ভার যা ওয়েব, এফটিপি এবং গফার সার্ভার হিসেবে কাজ করে। (বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম) এছাড়া পাওয়া যায় নেটওয়ার্কের অন্যান্য প্রায় সব সার্ভিস, যেমন – DHCP, DNS, RAS, Messaging ইত্যাদি। পরবর্তীতে এর জন্য ইন্টারনেট ইনফরমেশন সার্ভার ৪ ছাড়া হয় যা উইন্ডােজ এনটি অপশন প্যাক ৪ এর অন্তর্গত। এই অপশন প্যাকে ওয়েব, FTP, NNTP, SMTP-সহ ইনডেক্স সার্ভার, সার্টিফিকেট সার্ভার, মাইক্রোসফট ট্রানজ্যাকশন সার্ভার, ইত্যাদি রয়েছে। পরবর্তীতে উইন্ডােজ এনটি ৪.০ সার্ভারকে ব্যাকঅফিস সার্ভারের অন্তর্গত করা হয়। ব্যাকঅফিস সার্ভারে রয়েছে আরো কিছু সার্ভার এপ্লিকেশন, যেমন প্রক্সি সার্ভার, এক্সচেঞ্জ সার্ভার, এসকিউএল সার্ভার, এসএনএ সার্ভার, এসএমএস সার্ভার, সাইট সার্ভার, ইত্যাদি। এসব সার্ভার উইন্ডােজ এনটি সার্ভারের অধীনে চলে এবং মেসেজিং, ডাটাবেজ, সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট, ই-কমার্স এপ্লিকেশন, ইত্যাদি সার্ভিস দিয়ে থাকে।

কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে উইন্ডােজ এনটি সার্ভার বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ছােট ও মাঝারি ধরনের নেটওয়ার্কের জন্য এটি একটি ভাল সার্ভার। এনটি সার্ভার ব্যবহার করবেন কি না সে সিদ্ধান্তে আসার আগে আসুন জেনে নেয়া যাক এর সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ।

উইন্ডােজ এনটি ব্যবহারের সুবিধা হলাে:

  • এটি ইনস্টল ও কনফিগার করা বেশ সহজ। এর ইনস্টলেশনের জন্য আপনাকে খুব আতেল না হলেও চলবে। (বিশ্বাস করুন এনটি সম্পর্কে কোন ধারনা ছাড়াই আমি প্রথমবার এনটি ইনস্টল করেছিলাম।)
  • উইন্ডােজ ৯৫/৯৮ এর মতােই ইন্টারফেস পাবেন এখানে। বস্তুত ডেস্কটপ দেখে বােঝার উপায় নেই এটি উইন্ডোজ ৯৮ নাক এনটি। একই আইকন, স্টাট মেনু, প্রােগ্রাম গ্রুপ পাবেন এখানে।
  • এতে পাবেন লােকাল সিকিউরিটি। অর্থাৎ প্রতিটি ফাইল ও ফোল্ডারের জন্য ভিন্নভাবে পারমিশন দিতে পারবেন। আপনি যেসব ফাইলে একসেস করতে পারছেন অন্যরা যাতে সেগুলি ব্যবহার করতে কিংবা মুছে ফেলতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে পারেন। এর জন্য ব্যবহৃত হয় NTFS বা এনটি ফাইল সিস্টেম।
  • এনটি নেটওয়ার্কে ইউজারের সংখ্যা হাজার হাজার হতে পারে। যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক বিশ্বব্যাপী করা যেতে পারে।
  • উইন্ডােজ ৯৫/৯৮ এ চলে এমন এপ্লিকেশনের বেশিরভাগই উইন্ডােজ এনটিতে চলে, কিছু ডস এপ্লিকেশন এতে চলবে।
  • এর নেটওয়ার্ক ও সার্ভিসসমূহ কনফিগার করার জন্য রয়েছে বেশ সহজ গ্রাফিক্যাল টুলস যা আপনাকে বিভিন্ন কমান্ড মুখস্থ করার ঝামেলা থেকে রেহাই দেবে।

এনটি ব্যবহারের অসুবিধা হলাে:

  • উইন্ডােজ এনটি সার্ভারে কনফিগারেশন পরিবর্তন কিংবা নূতন ডিভাইস ড্রাইভার ইনস্টল করা হলেই এটি রিস্টার্ট করার দরকার পড়ে, যা সার্ভার ডাউনটাইম বাড়ায়।
  • অন্যান্য নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেমের মতাে এটি তত নির্ভরযােগ্য নয়। এনটি মাঝেমধ্যেই ক্র্যাশ ? করে এবং অনেক সময় বু স্ক্রিন মেসেজ, যাকে বু স্ক্রিন অব ডেথ বলা হয়ে থাকে, দেখা যায়।
  • সব ধরনের হার্ডওয়্যার উপযোগী নয়।

উইন্ডােজ এনটি ৪.০ সার্ভার ইনস্টল করার জন্য মেশিনের সর্বনিম্ন যে যােগ্যতা থাকা দরকার তাহলাে:

  • ৪৮৬/৩৩ মেগাহার্টজ প্রসেসর,
  • ১৬ মে.বাইট র্যাম,
  • ১২০ মে.বাইট হার্ডডিস্ক ফ্রি স্পেস।

এই কনফিগারেশনের কোনাে মেশিনে এনটি ইনস্টল করতে পারলেও কাজের কাজ কিছুই হবে না। বাস্তবে কাজ করতে চাইলে আপনার মেশিনের কনফিগারেশন হওয়া দরকার: ৭৫ মে.হার্টজ পেন্টিয়াম বা তার চেয়ে শক্তিশালী। প্রসেসর, ৬৪ মে. বাইট র্যাম। সেইসাথে লাগবে ভিজিএ ডিসপ্লে মনিটর।

বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম

উইন্ডােজ এনটি নেটওয়ার্কের সিকিউরিটি পুরােটিই নির্ভর করে এর ডােমেইনের উপর। উইন্ডােজ এনটিতে ডােমেইন হলাে সেসব কম্পিউটার নিয়ে একটি গ্রুপ যারা এক সিকিউরিটি জোনের অধীন। এক ডােমেইনের ইউজার ওই ডােমেইনের মধ্যেই চলাচল করতে পারে। প্রতিটি ডােমেইনে অবশ্যই একটি, এবং কেবল একটি, প্রাইমারি ডােমেইন কন্ট্রোলার (PDC) থাকে। এখানে ইউজার ডাটাবেজ, যাকে বলা হয় সিকিউরিটি একাউন্টস ম্যানেজার বা SAM, ও অন্যান্য সিকিউরিটি পলিসি থাকে। ইউজার নেটওয়ার্কে লগ ইন করার সময় যে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দেয় তা যাচাই করে এই পিডিসি। কোন ইউজার কোন রিসাের্সে একসেস পাবে তার লিস্ট মেইনটেইন করে এই PDC।(বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম) একটি PDC কোনাে কারণে অকেজো হয়ে গেলে অন্য কোনাে কম্পিউটার যাতে তার কাজ চালাতে পারে সেজন্য একটি ডােমেইনে থাকে একাধিক ব্যাকআপ ডােমেইন কন্ট্রোলার বা BDC। BDC অকেজো হয়ে গেলে কোনাে একটি বিডিসিকে প্রমােশন দিয়ে পিডিসি বানিয়ে দেয়া যায় কারণ। BDC সবসময় পিডিসির SAM ডাটাবেজ ও অন্যান্য সিকিউরিটি সেটিংসের কপি তার কাছে রাখে।

উইন্ডােজ ২০০০/২০০৩/২০০৮-এ কোনাে কম্পিউটারকে ডােমেইন কন্ট্রোলার হিসেবে ব্যবহার করতে হলো সেখানে একটিভ ডিরেক্টরি (AD) ইনস্টল করতে হয়। এখানে একটিভ ডিরেক্টরি সমৃদ্ধ কম্পিউটার হলাে ডােমেইন কন্ট্রোলার। কোনাে উইন্ডোজ ২০০০/২০০৩/২০০৮ ডোমেইন একাধিক ডোমেইন কন্ট্রোলার থাকতে পারে তবে সেগুলির কোনােটিই প্রাইমারি বা ব্যাকআপ ডােমেইন কন্ট্রোলার নামে পরিচিত হবে না। এখানে সবকটি ডোমেইন কন্ট্রোলার ইউজার ডাটাবেজে পরিবর্তন আনা যায় এবং কোনাে ডোমেইন কন্ট্রোলার অকেজো হয়ে গেলে অন্য ডোমেইন কন্ট্রোলার আপনা থেকেই ইউজারদের অথেন্টিকেট করতে থাকে। একই ডােমেইনের ইউজার কেবল সেই ডােমেইনের রিসাের্সে একসেস করতে পারে।(বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম) এক ডােমেইন থেকে । আরেক ডােমেইনের কোনাে রিসাের্সে একসেস করতে চাইলে দুই ডােমেইনের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক বা ট্রাস্ট রিলেশনশিপ (trust relationship) প্রতিষ্ঠা করার দরকার হয়। ডোমেইনকে আমরা তুলনা করতে পারি রাষ্ট্রের সাথে। আমি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নাগরিক, আমি যদি অন্য রাষ্ট্রে যেতে চাই তাহলে সেই রাষ্ট্রের অনুমতি বা ভিসা। লাগবে। এই ভিসা তখনই পাবে যদি সেই দেশের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে।

বিভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম

নভেল নিটওয়্যার

নেটওয়ার্কিং অপারেটিং সিস্টেমের কথা আসলেই প্রথমে মনে পড়ে নভেল নেটঅয়্যারের কথা। আশির দশকে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম নভেল নেটঅয়্যারের প্রস্তুতকারক Novel, Inc. নভেল ৩.১১ ছিল পুরাে আশির দশকে ফাইল ও প্রিন্ট সার্ভিসের জন্য ব্যবহৃত সেরা সার্ভার সফটঅয়্যার। এরপর নভেল বাজার বাড়তে থাকে। এর সর্বশেষ ভার্সন হেলে নভেল নেটঅয়্যার ৬।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতেও উইন্ডােজ এনটি’র চেয়ে নভেল নেটঅয়্যার ছিল এগিয়ে। এর এর মধ্যে অনেকস্থানেই নভেল নেটঅয়্যারকে প্রতিস্থাপিত করেছে উইন্ডােজ এনটি। কারণ নভেল নেটঅয়্যার থেকে উইন্ডােজ এনটিতে মাইগ্রেট করার সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে এবং এনটি একইসাথে নেটঅয়্যার ও ইউনিক্স নেটওয়ার্কের সাথে কাজ করতে পারে।

শুরুতে নভেল নেটঅয়্যার মার্কেট পেলেও আসলে এটি ডিজাইন করা হয় ছােট নেটওয়ার্কের জন্য যেখানে একটিমাত্র সার্ভার থাকবে। আর তাই নভেল সার্ভার নেটওয়ার্কে থাকা অবস্থায় সেখানে আরেকটি সার্ভার স্থাপন করা ছিল সত্যিই কঠিন। এক সার্ভারের ইউজার ও রিসাের্সকে অন্য সার্ভারে নেয়ার সহজ উপায় ছিল না। আপনি যদি নতুন কোন সার্ভার স্থাপন করেন তাহলে সেখানে আগের সার্ভারের মতােই নূতন করে একই ইউজার একাউন্ট তৈরি করতে হবে। এছাড়া নভেল নিটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড TCP/IP প্রটোকল ব্যবহার না করে ব্যবহার করত তাদের নিজস্ব IPX/SPX প্রটোকল। অন্য নেটওয়ার্কের সাথে কাজ করার অসুবিধা তৈরি হয় এই প্রটোকল ব্যবহারের জন্যই।

১৯৯৫ সালে বাজারে এলাে নভেল নেটঅয়্যার ৪.১১। এতে অনেক উন্নতি ঘটল। এখানে দেয়া হলাে টিসিপি/আইপি সাপোর্ট এবং নূতন ডিরেক্টরি সার্ভিস নোবেল ডিরেক্টরি সার্ভিস (NDS)। ১৯৯৮ সালে নভেল বাজারে ছাড়ে নভেল নেটঅয়্যার ৫। এতে টিসিপি/আইপি’র পুরাে সাপাের্ট রয়েছে এবং এর সাথে আছে বেশ কিছু সার্ভার সার্ভিস, যেমন DHCP, DNS, ইত্যাদি। এখানে NDS- এর অনেক উন্নতি হয়েছে।

নভেল ডিরেক্টরি সার্ভিস বা NDS- এ নেটওয়ার্কের প্রতিটি রিসোর্স লিস্ট থাকে। নেটওয়ার্কে কোনাে ইউজার কোনাে রিসাের্স খুঁজতে চাইলে দেখবে NDS- এ। সেখানে নেটওয়ার্কের প্রতিটি ওয়ার্কস্টেশন, শেয়ার, প্রিন্টার, শেয়ারড ডিভাইস, ইউজার, ইত্যাদি বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত থাকে। নভেল ডিরেক্টরি সার্ভিস নেটঅয়্যারকে এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্কের উপযোগী করে তোলে। নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর এর নিকট নেটঅয়্যার ডিরেক্টরি সার্ভিস বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ এর মাধ্যমে তারা একই স্থান থেকে বিভিন্ন সার্ভার ও রিসাের্স ম্যানেজ করতে পারে। মাইক্রোসফট এই ডিরেক্টরি সার্ভিস আদলেই উইন্ডোজ ২০০০ সার্ভারের সাথে যােগ করে একটিভ ডিরেক্টরি সার্ভিস (ADS)।

নভেল নেটওয়ার্ক সুবিধা হলো:

  • এটি স্ট্যাবল নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম
  • এর ডিরেক্টরি সার্ভিস কেন্দ্রীয়ভাবে পুরাে নেটওয়ার্ক রিসাের্স ম্যানেজ করার জন্য খুবই সুবিধাজনক।
  • এখান থেকে অন্যান্য সার্ভার, যেমন- উইন্ডােজ এনটি, ইউনিক্স, ইত্যাদি ম্যানেজ করা যায়।
  • এতে রয়েছে জাভাবেজড ম্যানেজমেন্ট ইউটিলিটি কনসােলওয়ান (ConsoleOne) যা নভেল ডিরেক্টরি। সার্ভিসের সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।

নভেল নেটওয়ার্কের অসুবিধা হলে:

  • ইউনিক্সের মতাে এখানেই নেটঅয়্যার সার্ভার এডমিনিস্টার করার জন্য বেশ কঠিন কিছু কমান্ড মুখস্থ করতে হবে।
  • বড় নেটওয়ার্কে নভেল ডিরেক্টরি সার্ভিস বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর পরিকল্পনায় দূরদৃষ্টি এবং দক্ষতা দরকার হবে।
  • উইন্ডােজ এনটি কিংবা ইউনিক্স- এর মতাে ব্যাপকভাবে নেটঅয়্যার ৫ ব্যবহৃত হয় না।

নভেল নেটঅয়্যার ৫ ইনস্টল করার জন্য আপনার কম্পিউটারের সর্বনিম্ন যে যােগ্যতা দরকার তাহলাে: পেন্টিয়াম প্রসেসর, ৬৪ মে.বা. র্যাম এবং ১ গিগা বাইট হার্ডডিস্ক স্পেস। তবে ভালাে পারফরম্যান্স পেতে হলে পেন্টিয়াম ২ প্রসেসর, ১২৮ মে, বা, র্যাম এবং ৪ গি.বা. হার্ডডিস্ক স্পেস দরকার পড়বে।

ইউনিক্স

ইউনিক্স শব্দটি শুনলেই অনেকে আঁৎকে উঠেন, যেমন ছােটবেলায় আমরা ইংরেজি কিংবা অংকের কথায় আংকে উঠি। এর কারণ হলাে ইউনিক্স চালানাে বেশ কঠিন এবং এটি শিখতে যাওয়া মানে আপনাকে প্রস্তুতি নিতে হয় বিশাল এক কমান্ড লিস্ট মুখস্থ করার জন্য। এর সব কমান্ডই দিতে হবে কমান্ড প্রম্পট থেকে। উইন্ডােজের মতাে পয়েন্ট এন্ড ক্লিক সুবিধা এতে নেই। তবে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের মতােই এটি বিভিন্ন এপ্লিকেশন ও সার্ভিস চালাতে পারে। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এটি বেশ দ্রুতগতির, নির্ভরযােগ্য এবং শক্তিশালী। এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী হওয়ায় ইন্টারনেট সার্ভার হিসেবে ইউনিক্স ব্যবহৃত হয়।

ইউনিক্সের যেমন বিভিন্ন সংস্করণ রয়েছে, তেমনি রয়েছে এক বিশাল ইতিহাস। এর জন্ম হয়েছিল AT&T’র বেল ল্যাবরেটরিতে ষাটের দশকে। তারপর থেকে এর বিভিন্ন সংস্করণ হয়েছে। সবচেয়ে আলােচিত ভার্সন হলাে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি’র ছাত্রদের উদ্ভাবিত BSD (বার্কলে সফটওয়্যার ডিস্ট্রিবিউশন) ইউনিক্স। তারা বেল ল্যাবের ইউনিক্স কোড নিয়ে নূতন প্রােগ্রাম করে এবং এটি বেশ জনপ্রিয় হয়। BSD ইউনিক্সের কোড বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় এবং এর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন সংস্করণ গড়ে তােলে। উল্লেখযােগ্য ইউনিক্স ভার্সন হলাে- সান মাইক্রোসিস্টেমসের সােলারিস, হিউলেট- প্যাকার্ডের এইচপি-ইউএক্স (HP-UX), আইবিএম- এর AIX এবং এপল কম্পিউটারের এপল OSX সার্ভার।

AT&T ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করলেও তারা সেটি বিক্রি করতে পারেনি আমেরিকার এন্টি ট্রাস্ট আহনের কারণে। এন্ট্রি ট্রাস্ট মামলার পর AT&T তাদের কোড প্রকাশে বাধ্য হয়। এরপর তারা ইউনিক্স উন্নত করার চেষ্টা করে এবং তৈরি করে ইউনিক্স সিস্টেম ফাইভ (UNIX System V)। এর সর্বশেষ সংস্করণ হলাে System V Release4 (SVR4)। AT&T এটি ডেভেলপ করে সান মাইক্রোসিস্টেমসের সাথে যৌথভাবে। আপনার যদি ইউনিক্স জানা নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর থাকে তাহলেই কেবল সার্ভারে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারেন।

ইউনিক্সের সুবিধা হলো:

  • এটি খুবই স্ট্যাবল অপারেটিং সিস্টেম।
  • এটি ওয়ার্কস্টেশন এবং সার্ভার হিসেবে কাজ করতে পারে।
  • এটি খুবই দ্রুতগতির।
  • এর সাথে আছে শত শত বিল্ট-ইন টুলস, ইউটিলিটি ও কম্পাইলার যা ব্যবহার করে ইউনিক্স সার্ভার ম্যানেজ এবং প্রয়োজনে প্রোগ্রামিং করা যায়।

ইউনিক্সের অসুবিধা হলে:

  • এটি বেশ জটিল এবং এতে খুব কঠিন কিছু কমান্ড ব্যবহার করা হয় যা আপনাকে মুখস্থ করতে হবে. এটি শিখতে গিয়ে অনেকেরই ঘুম হারাম হয়ে যায়।
  • বিএসডি ইউনিক্স বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও ইউনিক্সের অন্যান্য রিলিজ বেশ ব্যয়বহুল।
  • কোনাে কোনাে কোম্পানির ইউনিক্স ভার্সন কেবল সেসব কোম্পানির তৈরি বিশেষ হার্ডঅয়্যারে চলে

ইউনিক্সের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলাে এদের অনেক ভার্সন, একেকটি আরেকটির চেয়ে ভিন্ন। আবার একটি রিলিজ আরেকটা থেকে ভিন্ন। সব ইউনিক্স সব ধরনের প্রসেসর চলে না।

লিনাক্স

লিনাক্সের নাম এতদিনে নিশ্চয় শুনে থাকবেন। পত্রপত্রিকা খুললে দু’একটি নিবন্ধ লিনাক্সের উপর দেখলে পাবেন। লিনাক্স আসলে লিনাক্সের মতোই একটি আলাদা অপারেটিং সিস্টেম। লিনাক্সের জন্মদাতা হলেন হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লিনাস টোরভাল্ড। এটি একটি ওপেন সাের্স অপারেটিং সিস্টেম। অর্থাৎ এর সাের্স কোড সবার জন্য উন্মক্ত। আপনি সোর্স কোড দেখে নিজের প্রয়োজন মতো পরিবর্তন করে নিতে পারেন (যদি সেই স্তরের প্রােগ্রামার হন)। এর আরেকটি সুবিধা হলাে বিভিন্ন প্ল্যাটফরমের জন্য উপযুক্ত কম্পাইলার দিয়ে সাের্স কোড কম্পাইল করে দিলে সেটা সেই প্ল্যাটফর্মের উপযোগী হবে।

লিনাক্সেরও আছে বিভিন্ন ভার্সন। এর মধ্যে জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন হলাে রেডহ্যাট লিনাক্স। বর্তমানে পাওয়া যায় রেডহ্যাট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স ৫। এটির সাথে এফটিপি সার্ভার, ওয়েব সার্ভার, মেইল সার্ভার, এনএনটিপি সার্ভার সহ বেশ কিছু নেটওয়ার্ক সার্ভিসের সুবিধা আছে। বর্তমানে লিনাক্সের বিভিন্ন জনপ্রিয় সংস্করণ, যেমন ফিডােরা ও উবুন্টু, খুবই সহজবােধ্য ও সহজে ব্যবহারযােগ্য। আশা করা যায় এটি শীঘ্রই ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ প্রতিস্থাপন করবে। লিনাক্স উইন্ডোজের মতাে গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস দেয়ার জন্য ব্যবহার করা এক্স-উইন্ডােজ। এর প্লাসপয়েন্ট হলাে এটি ফ্রি, উইন্ডােজের মতাে এটিকে কিনতে হয় না.

লিনাক্সের বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউশনে কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। ইউনিক্সের মতাে এটিও শেখা মুশকিল হয়ে দাড়ায় বিভিন্ন তালনের কারণে। তবে এর জনপ্রিয়তার কারণ হলাে এটি ৩৮৬ মেশিনেও চলে, এর জন্য বিভিন্ন এপ্লিকেশন যা তৈরি হচ্ছে তার বেশিরভাগই বিনে পয়সায় পাওয়া যায় এবং অপারেটিং সিস্টেমটিও পাওয়া যায় বিনে পয়সায়। আপনি ইউনিক্স ব্যবহারে আগ্রহী হলেই কেবল লিনাক্স ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এখানেও লিনাক্সে দক্ষ এডমিনিস্ট্রেটর দরকার পড়বে।

লিনাক্সের সুবিধা হলো:

  • ইউনিক্সের চেয়ে সহজে এটি ইনস্টল করা যায়।
  • ইউনিক্সের মতো একটি দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য।
  • এটি পিসি, পাওয়ার পিসি ও স্পার্কস্টেশনে চলে।
  • এটি পাওয়া যায় বিনে পয়সায়।
  • সোর্সকোড উন্মুক্ত বলে এর ত্রুটি (bug) সহজে এবং দ্রুত সারানো যায়।

লিনাক্সের অসুবিধা হলাে:

  • এটিও ইউনিক্সের মতোই। তার মানে আপনাকে শত শত কমান্ড মুখস্থ করতে হবে।
  • এটি এডমিনিস্টার করার জন্য আপনার দরকার পড়বে একজন ইউনিক্স এডমিনিস্ট্রেটর।
  • লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করলে কোন কোম্পানির পুরো কাস্টমার সাপোর্ট দেবে না। কোনাে সমস্যায় পড়লে আপনাকে ইন্টারনেটে লিনাক্স ফোরামে গিয়ে তার সমাধান খুঁজতে হবে, কিংবা অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

লিনাক্স ইন্সটল করার জন্য আপনার কম্পিউটারের সর্বনিম্ন যোগ্যতা হওয়া দরকার: ইন্টেল ৩৮৬ প্রসেসর, ১৬ মে, বা, র্যাম এবং ১২৫ মে.বা. হার্ডডিস্ক স্পেস। তবে ভাল পারফরম্যান্স পাওয়ার জন্য মােটামুটি কনফিগারেশন হওয়া দরকার ইন্টেল ৭৫ মে.হা. প্রসেসর, ৩২ মে.বা. র্যাম এবং ১ গি.বা. হার্ডডিস্ক স্পেস।

এপলশেয়ার আইপি

এপল কম্পিউটার্সের তৈরি সার্ভার সফটওয়্যার হলো এপল শেয়ার। এর বিভিন্ন ভার্সনের মধ্যে এপলশেয়ার ৪-ই প্রথম ভাল ফাইল এবং প্রিন্টার সার্ভার হিসেবে কাজ করে। ১৯৯৭ সালে বাজারে আসে এপলশেয়ার ৫ আর এপলশেয়ার ৫.০.৩ থেকে টিসিপি/আইপি- সহ ই-মেইল, এফটিপি ও ওয়েব সার্ভার এপ্লিকেশন রয়েছে। এপলশেয়ার ৫ এর আরেকটি ভালাে ফিচার হলাে এই যে একটি এপলশেয়ার লাইসেন্স ব্যবহার করে কয়েকটি সার্ভারে সেটি ইনস্টল করা যায়। এর ফলে নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর এক কম্পিউটারে এফটিপি সার্ভার, আরেকটিতে এনএনটিপি সার্ভার এবং অন্য কম্পিউটারে ই- মেইল সার্ভার সেটআপ করে সার্ভারের কাজকে ডিস্ট্রিবিউটেড করতে পারে।

সর্বশেষ ভার্সন হলাে এপলশেয়ার আইপি ৬.১। এটি ম্যাক ওএস ৮.৫ এও চলে এবং এতে টিসিপি/আইপি নেটিভ সাপাের্ট রয়েছে। ফলে উইন্ডােজ এনটি নেটওয়ার্কের সাথে এটি কাজ করতে পারে। উইন্ডােজ মেশিনের নেটওয়ার্ক নেইবারহুড থেকে সরাসরি ম্যাকিন্টশ কম্পিউটার কে দেখা সম্ভব হলাে এপল শেয়ার আইপি’র ফলে।

এপেলশেয়ার ব্যবহারের সুবিধা হলো:

  • এটি ইনস্টল ও ব্যবহার করা সহজ ।
  • এটি পারফরম্যান্স বেশ সন্তোষজনক।
  • এতে পাবেন ম্যাকিন্টশ সহজ ইন্টারফেস।
  • এটি ম্যাকিন্টশ ও উইন্ডোজ উভয় ধরনের কম্পিউটার সাপাের্ট করে।
  • এটি টিসিপি/আইপি প্রটোকল ও ইন্টারনেট এপ্লিকেশন সাপোর্ট করেন।

এপলশেয়ারের অসুবিধা হলাে:

  • অন্যান্য সার্ভারের মতাে এটি সিকিউর নয়।
  • হাজারের মতাে ইউজার হবে এরকম বড়াে নেটওয়ার্কে এটি কাজ করে না।
  • অন্যান্য সার্ভার সফটঅয়্যারের তুলনায় এপলশেয়ারের জন্য এপ্লিকেশনের সংখ্যা বেশ কম।

এপলশেয়ার ব্যবহারের জন্য আপনার কম্পিউটারের সর্বনিম্ন কনফিগারেশন হওয়া দরকার: পাওয়ারপিসি ৬০২ প্রসেসর, ৬৪ মে.বা. র্যাম এবং ৫০০ মে.বা. হার্ডডিস্ক স্পেস। তবে ভাল পারফরম্যান্স পাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে কমপক্ষে পাওয়ারপিসি ৬০৪/২০০ মে.হা. প্রসেসর, ৯৬ মে.বা, র্যাম এবং ১ গি.বা. হার্ডডিস্ক স্পেস।

ম্যাক ওএস এক্স সার্ভার

মার্চ ১৯৯৯ সালে এপল কম্পিউটার্স বাজারে ছাড়ে ম্যাক ওএস এক্স সার্ভার। এটি মূলত বিএসডি ইউনিক্সের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এর কোডকে উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এই আশায় যে বিভিন্ন দেশের ডেভেলপাররা লিনাক্সের মতাে একেও ডেভেলপ করবে। কিন্তু বাস্তবে সে ধারণা কাজ করে নি।

ম্যাক ওএস এক্স সার্ভার ব্যবহারের সুবিধা হলাে:

  • এটি বেশ সিকিউর।
  • এটি গড়ে উঠেছে ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে।
  • এর সাথে আছে পৃথিবীর দ্রুততম ও সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এপাচি ওয়েব সার্ভার।
  • এতে ম্যাকিন্টশ কম্পিউটার কেন্দ্রীয় ভাবে ম্যানেজ করার সুবিধা আছে।

ম্যাক ওএস এক্স সার্ভারে অসুবিধা হলে:

  • এটি সফটঅয়্যরাটির প্রথম সংস্করণ, তাই এর মাঝে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক।
  • এতে ই-মেইল ও প্রিন্ট সার্ভার সফটওয়্যার নেই।
  • এটি উইন্ডোজ ক্লায়েন্ট সাপোর্ট করে না।
  • এটি বর্তমান ম্যাকিন্টশ এপ্লিকেশন সমূহ সাপোর্ট করে না।

 

Check Also

আর্কনেট যেভাবে কাজ করে

আর্কনেট যেভাবে কাজ করে

আর্কনেট যেভাবে কাজ করে আর্কনেট (আর্কনেট যেভাবে কাজ করে) এটাচ রিসোর্স কম্পিউটার নেটওয়ার্ক (ARCNet) হলাে …

এপলক, লোকালটক, ইথারনেট, টোকেনটক ও জোন

এপলক-লোকালটক-ইথারনেট-টোকেনটক ও জোন

এপলক-লোকালটক-ইথারনেট-টোকেনটক ও জোন এপলক (এপলক-লোকালটক-ইথারনেট-টোকেনটক ও জোন) ম্যাকিন্টশ কম্পিউটার নিয়ে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কে এই এপলটক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »