Thursday , 18 August 2022
Home » Education » ডেস্কটপ কম্পিউটার নিরাপদ এবং সুরক্ষিত রাখার কার্যকরী ৫টি উপায়

ডেস্কটপ কম্পিউটার নিরাপদ এবং সুরক্ষিত রাখার কার্যকরী ৫টি উপায়

ডেস্কটপ কম্পিউটার নিরাপদ এবং সুরক্ষিত রাখার কার্যকরী ৫টি উপায়

pexels-tima-miroshnichenko

ডেস্কটপ কম্পিউটার নিরাপদ এবং সুরক্ষিত রাখার কার্যকরী ৫টি উপায়, বিশ্বে প্রতিদিন বাড়ছে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা। কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং জনিত ও নিরাপত্তাহীনতার মত বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। যে সমস্যা গুলোর কারণে অনেক সময় কম্পিউটার হ্যাকিং এর কবলে পড়ে বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারেরা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। এছাড়াও কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা এই সমস্যা গুলোর কারণে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়। 

 

যদি আপনার ডেক্সটপ কম্পিউটার নিরাপদ এবং সুরক্ষিত রাখতে চান, তাহলে কিভাবে ডেক্সটপ কম্পিউটার নিরাপদ রাখবেন সেই সব বিষয়গুলো নিয়ে জানতে পারবেন। আর আপনি এই আর্টিকেলটি ভালো ভাবে যদি পড়েন তাহলে আপনার ডেস্কটপ কম্পিউটার কিভাবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখবেন তা জানতে পারবেন। কানর এই আর্টিকেলে আপনাদের সাথে শেয়ার করব ডেক্সটপ কম্পিউটার নিরাপদ এবং সুরক্ষিত রাখার কিছু কার্যকরী উপায় সমূহ সম্পর্কে। 

১. ট্রাস্টেড ও জনপ্রিয় ওয়েবসাইট 

কম্পিউটারের জন্য আপনি কিন্তু প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার বা অ্যাপস ইন্সটল করে থাকেন। তবে সবসময় খেয়াল রাখবেন যে, এইসব অ্যাপস বা সফটওয়্যার ইনস্টল করার সময় অবশ্যই অফিসিয়াল ও জনপ্রিয় বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ স্টোর অথবা ওয়েবসাইট থেকে আপনার প্রয়োজমীয় অ্যাপস গুলো ডাউনলোড করবেন। 

 

কেননা অনেক সময় দেখা যায় ফ্রি অ্যাপস গুলো ডাউনলোড করতে বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন। যদি কখনল উক্ত সাইট থেকে ডাউনলোড করে সফটওয়্যার ইন্সটল করেন। তাহলে অনেক সময়ে সেই সব অ্যাপসগুলো ম্যালওয়ার ভাইরাসে আক্রান্ত ক্র্যাকেড ও হ্যাকিং ভার্সনের থাকতে থাকতে পারে। আর এতে করে যখন আপনার কম্পিউটারে সফটওয়্যার বা অ্যাপসটি ইন্সটল করবেন। 

 

সেই সাথে আপনার কম্পিউটারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে যাবে অথবা কম্পিউটারের ব্যক্তিগত সকল তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যাবে। আর এই ক্র্যাকেড ও ম্যালওয়্যার ভাইরাসে অ্যাপস ব্যবহারে আপনি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। আর তাই সবসময় চেষ্টা করেন বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ডাউনলোড করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ট্রাষ্টেড ও জনপ্রিয় কোন ওয়েবসাইট থেকে ফ্রি অ্যাপস গুলো ডাউনলোড করে নিবেন।

 

২. অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার আপডেট

বর্তমান সময়ে কিন্তু বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ডেক্সটপ কম্পিউটারে প্রবেশ করে শুধুমাত্র অপারেটিং সিস্টেম ও বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার এর কারণে। আর তাই আপনাকে সবসময় অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করে রাখতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করতে হবে। 

 

অপারেটিং সিস্টেম ও কম্পিউটারে থাকা সফটওয়ার গুলোতে বিভিন্ন ধরনের ভুল ত্রুটি দেখা দিলে সাথে সাথে কতৃপক্ষ সেগুলো সমাধান করে নতুন করে প্রকাশ করে। আর তখনি আপনার এই ভার্সনের অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়ার গুলো আপডেট করে ইন্সটল করে নিতে হবে। পুরনো সফটওয়ার আপডেট দিলে আগের ভার্সনের সফটওয়ারে সমস্যা গুলোর মাধ্যমে হ্যাকাররা আপনার কম্পিউটার হ্যাক করতে পারবে না।

 

আপনি কম্পিউটারের জন্য যেসব সফটওয়্যার বা অ্যাপস গুলো ব্যবহার করেন। সেই সব অ্যাপস গুলো কিন্তু নিয়মিত আপডেট করতে হবে। কেননা উক্ত অ্যাপসটিতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে সেগুলো ফিক্স করে আবার পুনরায় আপডেট করে প্রকাশ করে। আর তখন যদি আপনি তাদের আপডেট ভার্সন গুলো অটোমেটিক ভাবে ডাউনলোড করে ইন্সটল করেন। 

 

তাহলে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন আপনার কম্পিউটার হবে না। কেননা অনেক সময় দেখা যায় আপডেট ছঅড়া সফটওয়্যার গুলো নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বেশি থাকে। অন্যদিকে যেসব অ্যাপস সফটওয়্যার গুলো আপডেট হওয়ার সাথে সাথে আপনি আপডেট করে নিবেন তখন কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকি খুব কম থাকবে।

 

৩. ফায়ারওয়াল ব্যবহার

ডেক্সটপ কম্পিউটার সুরক্ষিত ও নিরাপদে রাখার আরো একটি জনপ্রিয় এবং ভাল কার্যকরী উপায় হল ফায়ারওয়াল ব্যবহার। ফায়ারওয়াল ব্যবহার করার কারণে আউটগোয়িং ও ইনকামিং বিভিন্ন ধরনের তথ্য কম্পিউটার গ্রহন করার আগে যাচাই-বাছাই করার সুযোগ থাকে। ফায়ারওয়াল আপনার অথরাইজড অ্যাক্সেস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর এবং ভাইরারজনিত তথ্য আটকে দিয়ে আপনার কম্পিউটার এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

 

যদি আপনার কম্পিউটারে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান তাহলে এক্ষেত্রে অবশ্যই ফায়ারওয়াল ব্যবহার করতে পারে। ফায়ারওয়াল ব্যবহার করার ফলে দেখবেন বিভিন্ন ধরনের তথ্য আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবহার করা যাবে। আর এতে করে আপনি জানতে পারবেন যে কখন কোন ভাইরাস দ্বারা আপনার কম্পিউটার আক্রান্ত হতে পারে। তাই আপনার কম্পিউটারকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার জন্য ফায়ারওয়াল ব্যবহার করতে পারেন।

 

৪. এন্টি ভাইরাস এন্টি স্পাইওয়্যার

বেঙ্গলি কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত আছেন। ভাইরাস দ্বারা যেমন আমাদের কম্পিউটার আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হ্যাকারেরা হাতিয়ে নিয়ে থাকে এবং নষ্ট হয়ে যায়। সেই সাথে এন্টি ভাইরাস দ্বারা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজের ডেস্কটপ কম্পিউটার কে রক্ষা করা যায়। 

 

যদি আপনি আপনার কম্পিউটার নিরাপদ রাখতে চান তাহলে অবশ্যই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো এন্টি ভাইরাস ও এন্টি স্পাইওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। কেননা বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের হ্যাকাররা নানান ধরনের ভাইরাস

,স্পাইওয়্যার, ম্যালওয়্যার, অ্যাডওয়্যার ও ওয়ার্ম এর মতো বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম চালু করার মাধ্যমে সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। 

 

আর যদি আপনি কম্পিউটারের ক্ষতিকর বিভিন্ন ভাইরাস আক্রমণ জনিত বিভিন্ন সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে চান তাহলে এজন্য অবশ্য এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে পারেন। কেননা অনেকাংশেই এন্টি ভাইরাস ও এন্টি স্পাইওয়ার আপনার কম্পিউটারের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম। আর তাই এন্টি ভাইরাস বা এন্টি স্পাইওয়ার ইনস্টল করলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে। এতে করে দেখবেন আপনার কম্পিউটার নিরাপদ ও সুরক্ষিত থাকবে।

৫. স্পাম ই-মেইল

বর্তমান সময়ের উন্নত প্রযুক্তির সাথে সাথে হ্যাকারেরা ও বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং মেথড ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে থাকে। আর তার মধ্যে অন্যতম একটি হ্যাকিং মেথড হলো ইমেইল স্পামিং। ইমেইল স্প্যামিংয়ের মাধ্যমে আপনাকে হ্যাকারেরা বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় অফার দিতে পারে। শুধু তাই নয় হতে পারে আপনাকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার জিতেছেন এমন একটি লটারির লিংক পাঠাতে পারে। 

 

যেখানে আপনাকে বলে হতে পারে যে, লিংকে ক্লিক করে আপনার পুরস্কার জিতে নিন। আর যখনই আপনি উক্ত লিঙ্কটাতে ক্লিক করবেন সাথে সাথে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ইউজারনেম-পাসওয়ার্ড হ্যাকারের কাছে চলে যাবে। শুধু তাই নয় হ্যাকার আপনার ডেক্সটপ কম্পিউটার হ্যাকড করে বিভিন্ন ক্ষতি করতে পারে। সেই সাথে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। 

 

আর এই হ্যাকিংয়ের মূল কারণ হল আপনি যে ইমেইল লিংকে ক্লিক করেছেন সেটা ছিল স্পামিং ই-মেইল। এই ইমেইল ব্যবহার করে হ্যাকাররা আপনাকে লোভনীয় অফার দেওয়ার সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে থাকে। তাই আপনি যদি কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে অবশ্যই ইমেইল লিংকে ক্লিক করার আগে ইমেইল সম্পর্কে ভালভাবে চেক ও যাচাই বাছাই করে নিবেন। তাহলে দেখবেন আপনার ডেক্সটপ কম্পিউটার অনেকাংশে নিরাপদ এবং সুরক্ষিত থাকবে।

 

বর্তমান সময়ে কিন্তু কম্পিউটার বিভিন্ন ধরনের ম্যালওয়্যার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। আর আপনার কম্পিউটার যদি সুরক্ষিত রাখতে চান তাহলে অবশ্যই উপরের সব গুলো টিপস ভালো ভাবে অনুসরণ করবেন। যদি সব গুলো টিপস আপনি ভালো ভাবে অনুসরণ করতে পারেন তাহলে দেখবেন আপনার ডেক্সটপ কম্পিউটার নিরাপদ ও সুরক্ষিত আগের তুলনায় অনেকাংশে বেশি থাকবে। 

 

আর আপনি যদি কোনো কারণ এইসব বিষয় গুলো এড়িয়ে চলে কম্পিউটার ব্যবহার করেন। তাহলে কিন্তু আপনার কম্পিউটারের নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। যে কোন মুহূর্তে আপনার কম্পিউটার বিভিন্ন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। এতে করে আপনি বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। আর আপনি যদি কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে না চান তাহলে অবশ্যই আমাদের উপরের প্রত্যেকটা টিপস ভালো ভাবে অনুসরণ করবেন। তাহলে আপনি আপনার ডেক্সটপ কম্পিউটার নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

HOME

Check Also

How Works YouTube Cache || YouTube Cache কিভাবে কাজ করে ?

YouTube Cache কিভাবে কাজ করে ? এটা একটা ক্লায়েন্টের কমপ্লেন।  How Works YouTube Cache ? …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »