Wednesday , 12 August 2020
Home » Networking » ফাইবার ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটা ইন্টারফেস (FDDI)

ফাইবার ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটা ইন্টারফেস (FDDI)

ফাইবার ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটা ইন্টারফেস (FDDI)

( ফাইবার ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটা ইন্টারফেস (FDDI) )১৯৮২ সালে বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন সংস্থা (বিশেষ করে ANSI) এবং ভেন্ডররা ফাইবার অপটিক ডাটা ইন্টারফেস তৈরির কাজে লাগেন। এটি শুরুর পেছনে কারণ সবাই চাচ্ছিল একটি দ্রুতগতির লােকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক তৈরির পদ্ধতি। ১৯৯০ সালে এটি ANSI X3 স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হলাে। এটি টোকেন রিং নেটওয়ার্কের মতােই টোকেন পাসিং ব্যবহার করে কিন্তু এটি হাব কিংবা MAU ছাড়াই চলতে পারে। যদিও এর সাথে কনসেনট্রেট এর ব্যবহার করা যেতে পারে। খুব দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক গড়ার জন্য এতে ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহৃত হয়।

FDDI কীভাবে কাজ করে

FDDI নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে ফাইবার অপটিক দিয়ে ডুয়াল-রিং ব্যবহার করে। এই ডুয়াল রিং টপােলজিতে প্রতিটি স্টেশন হতে পারে ডুয়াল এটাচমেন্ট স্টেশন (DAS) কিংবা সিঙ্গল এটাচমেন্ট স্টেশন (SAS)। এখানে ‘ দুটি রিঙের একটি হলাে প্রাইমারি, আরেকটি সেকেন্ডারি রিং। প্রাইমারি রিঙে ডাটা একই দিকে প্রবাহিত হয় সেকেন্ডারি রিং ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে। সেকেন্ডারি রিঙে ডাটা প্রবাহিত হলে সেটি হবে প্রাইমারি রিঙের উল্টোদিকে অর্থাৎ প্রাইমারি রিঙে ডাটা ট্রান্সমিশন ঘড়ির কাঁটার দিকে হলে, সেকেন্ডারি রিঙে তা হবে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে। সেকেন্ডারি রিং এমনি সময়ে নীরব থাকে কিন্তু প্রাইমারি রিঙে ডাটা পরিবহনের সময় কোন সমস্যা দেখা দিলে কিংবা রিং এর মাঝে কোথাও ভেঙ্গে গেলে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি রিং র্যাপিঙের মাধ্যমে একটি রিং তৈরি করে। এর ফলে ডাটা প্রবাহ সচল থাকে। যদি একইসময়ে রিঙে একাধিক ব্রেক দেখা যায় তাহলে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি রিঙের র‍্যাপিং এর ফলে সেই কয়েকটি সেগমেন্ট রিঙে পরিণত হবে। যতক্ষণ না আসল রিং মেরামত করা হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই রিঙেই ডাটা প্রবাহিত থাকবে। ( ফাইবার ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটা ইন্টারফেস (FDDI)

ফাইবার ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটা ইন্টারফেস (FDDI)

ডুয়াল এটাচমেন্ট টপোলজিতে ফিডি ডয়াল এটাচমেন্ট কনসেনট্রেটেড (DAC) ব্যবহার করতে পারে। আজ দুপ! এটাচমেন্টে রিঙে সংযুক্ত হতে পারে এবং সিঙ্গল এটাচমেন্ট স্টেশন (SAS) এর মাধ্যমে প্রাইমারি রিঙের সাথে সংযুক্ত হতে পারে। প্রাইমারি রিং অকেজো হয়ে গেলে এসব সিঙ্গল এটাচমেন্ট স্টেশন সেকেন্ডারি রিঙে যােগ দিতে পারে। ডুয়াল এটাচমেন্ট ফিডিতে কপার বা তামার তারও ব্যবহার করা যায় যা কপার ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটা ইন্টারফেস (CDDI) বলে পরিচিত। এতে মিডিয়া হিসেবে UTP কিংবা STP ক্যাবল ব্যবহার করা যায়।

টোকেন রিং নেটওয়ার্কের মতােই FDDI নেটওয়ার্কে টোকেন পাসিং একসেস মেথড ব্যবহার করা হয়। এখানে টোকেন পুরাে রিঙে ঘুরতে থাকে। যে স্টেশনে ডাটা পাঠানোর দরকার সে টোকেন ক্যাপচার করে তার সাথে ডাটা যােগ করে সেটিকে রিঙে পাঠায়। এটি গন্তব্য স্টেশনে পৌছুলে সে ডাটাকে কপি করে নেয় এবং টোকেনসহ ডাটা রিঙে ছেড়ে দেয়। এটি প্রেরণকারী স্টেশনে পৌছুলে টোকেনের ফ্রেম প্যাটার্ন দেখে বুঝতে পারে যে ডাটা গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছেছে। টোকেন রিং নেটওয়ার্কে সম্ভব না হলেও, FDDI নেটওয়ার্কে কোনাে স্টেশন টোকেন পাওয়ার পর একসাথে একাধিক ফ্রেম পাঠাতে পারে। কারণ এখানে প্রেরণকারী স্টেশন টোকেনটি পুরাে রিং ঘুরে ফেরত আসার অপেক্ষায় না থেকেই পরের ফ্রেম পাঠাতে পারে।

পুরাে ডাটা রিং ঘুরে প্রেরণকারী স্টেশনে ফেরত আসার আগেই সেই স্টেশন টোকেন ছেড়ে দিতে পারে। প্রথম স্টেশন তার প্রয়োজনীয় ফ্রেমগুলি রিঙে ছেড়ে দেয়ার পরই টোকেন ছেড়ে দিতে পারে। এর ফলে ওই স্টেশনের পাঠানাে ফ্রেমুলি রিে থাকাবস্থায়ই দ্বিতীয় স্টেশন তার ফ্রেম ট্রান্সমিশন শুরু করতে পারে। কােনাে কোনাে FDDI নেটওয়ার্কে একেকটি স্টেশনের জন্য একটি করে ট্রান্সমিশন ইন্টারভ্যাল সেট করা যেতে পারে। এই নির্দিষ্ট সময় অন্তর ওই স্টেশন নেটওয়ার্কে ডাটা পাঠাতে পারবে। ডাটা পাঠানাের জন্য তাকে টোকেনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এভাবে নেটওয়ার্কে পাঠানাে ফ্রেমকে বলা হয় সিনক্রোনাস ফ্রেম (synchronous frame)। এটি FDDI নেটওয়ার্কের একটি অপশনাল ফিচার। ( ফাইবার ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটা ইন্টারফেস (FDDI)

এরকম আরেকটি অপশনাল ফিচার হলাে মাল্টিফ্রেম ডায়ালগ। লক্ষ্য করুন, সাধারণ টোকেন নেটওয়ার্কে পাঠানাে হলে সেটি সবকটি স্টেশন হয়ে প্রেরণকারীর নিকট ফেরত আসে। এতে সব কটি স্টেশন জানতে পারে সেই টোকেনে কী আছে। কোনাে স্টেশন যদি কেবল আরেকটি স্টেশনের সাথে যােগাযােগ করতে চায়, অন্যান্য স্টেশনকে বিরক্ত না করে, তাহলে মাল্টিফ্রেম ডায়ালগের মাধ্যমে কেবল ওই স্টেশনের জন্য একটি টোকেন পাঠাতে পারে। এই টোকেন কি বলা হয় লিমিটেড টোকেন। লিমিটেড টোকেন এর মাধ্যমে কেবল প্রেরণকারী স্টেশনের নিকট উত্তর পাঠাতে বলা হয়। এভাবে দুটি স্টেশন অন্যদের বিরক্ত না করে কমুনিকেশন চালিয়ে যেতে পারে।

FDDI কম্পোনেন্ট

ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি রিঙে FDDI স্টেশনগুলিকে যােগ করা যেতে পারে। এর জন্য কোনাে MAU বা হাবের দরকার হয় না। তবে FDDI কনসেনট্রেটর ব্যবহার করে সিঙ্গল এটাচমেন্ট স্টেশন (SAS) যুক্ত করার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। FDDI নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত উপাদানসমূহকে আমরা দু’ভাগে ভাগ করবাে: স্টেশন ও কার্ড এবং কনসেনট্রেটর।

স্টেশন ও নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড

FDDI নেটওয়ার্কে একেটি স্টেশনে দুধরনের নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC) ব্যবহৃত হতে পারে। এগুলি হলাে:

  • ডুয়াল এটাচমেন্ট স্টেশন – এ ধরনের নেটওয়ার্ক এডাপ্টারে দুটি ক্যাবলের সাথে সংযােগ দেয়ার জন্য কানেক্টেড থাকে। এই কানেক্ট গুলোকে বলা হয় মিডিয়াম ইন্টারফেস কানেক্টর (MIC)। Type A MIC দিয়ে প্রাইমারি রিঙে ইনপুট পথ ও সেকেন্ডারি রিঙের আউটপুট পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, অন্যদিকে Type B MIC প্রাইমারি রিঙের আউটপুট পথ ও সেকেন্ডারি রিঙের ইনপুট পথ হিসেবে কাজ করে।
  • সিঙ্গল এটাচমেন্ট স্টেশন – এ ধরনের নেটওয়ার্ক এডাপ্টারে Type S MIC থাকে। এই কানেক্টর ব্যবহার করে এই স্টেশনকে কনসেনট্রেট এর সাথে যুক্ত করা হয়।

কনসেনট্রেটর

FDDI নেটওয়ার্ক তিন ধরনের কনসেনট্রেটর এর ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো হলাে:

  • ডুয়াল এটাচমেন্ট কনসেনট্রেটেড (DAC) – এ ধরনের কনসেনট্রেট দুটি Type A ও Type B MIC কানেক্টর থাকে যাতে এটি ডুয়াল রিঙে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া এতে থাকে একাধিক ঢ়ব গ গও যাতে সঙ্গে এটাচমেন্ট স্টেশন এতে যোগ করা যায়।
  • সিঙ্গল এটাচমেন্ট কনসেন্ট্রর (SAS) – সিঙ্গল এটাচমেন্ট কনসেনট্রেটরে কেবল একটি Type S MIC থাকে যাতে এটি অন্য কনসেনট্রেটরের সাথে যুক্ত হতে পারে। এতে সিঙ্গল এটাচমেন্ট স্টেশন যোগ করার জন্য একাধিক Type M MIC থাকে।
  • নাল এটাচমেন্ট কনসেনট্রেটেড (NAS) – এ ধরনের কনসেনট্রেট কেবল Type M MIC থাকে যাতে এর সাথে সিঙ্গল এটাচমেন্ট স্টেশন যােগ করা যেতে পারে। এটিতে কোনাে Type A, Type B কিংবা Type S MIC না থাকায় একে ডুয়াল রিঙে কিংবা অন্য কোনাে কনসেনট্রেটরের সাথে যােগ করা যায় না। এ ধরনের কনসেনট্রেটেড সাধারণত কনসেনট্রেটেড ট্রির সবার উপরে থাকে।

FDDI নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য

ফিডির জন্মের প্রথমদিকে অনেক ভেন্ডরের ধারণা ছিল ফাস্ট ইথারনেটের প্রচলনের পরও FDDI ব্যাপক জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক টেকনােলজি হিসেবে টিকে থাকবে। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারণা ভুল বলে প্রমাণিত হতে চলেছে। তবে একথা ঠিক যে FDDI নেটওয়ার্ক টেকনােলজির এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য নেটওয়ার্কে পওয়া যায় না।

FDDI নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য সমূহ হলো:

  • বিল্ট-ইন রিডান্ডেন্সি কারণে উচ্চ ত্রুটি- সহন ক্ষমতা (fault tolerance)
  • কার্যকর মিডিয়া একসেস প্রটোকলের সুবিধা এতে রয়েছে। টোকেন পাসিং ব্যবহার করার ফলে এতে ব্যান্ডউইডথের ৮৫- ৯০% ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে CSMA/CD একসেস মেথড ব্যবহার করে কেবল ৬৫% ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করা যায়।
  • রিং সেগমেন্টের ডায়ামিটার বেশ ব্যাপক হতে পারে এবং প্রতি সেগমেন্টে স্টেশনের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। একটি রিঙে ১০০০ স্টেশন থাকতে পারে, এবং এটি ২০০ কিলােমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
  • মিডিয়া হিসেবে ফাইবার অপটিক ব্যবহার করায় এটির গতি, নিরাপত্তা ও নির্ভরযােগ্যতা অনেক বৃদ্ধি পায়।
  • এসব সুবিধা পেতে হলে FDDI নেটওয়ার্ক তৈরির বিশাল ব্যয় অবশ্যই করতে হবে। সেকারণেই FDDI দৈনন্দিন নেটওয়ার্কের জন্য তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে নি।

 

Check Also

সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন

সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন

সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন (সিগন্যালিং ও ডাটা কমিউনিকেশন) কম্পিউটার কমুনিকেশনে ফিজিক্যাল মিডিয়ার মধ্য দিয়ে ডাটা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »